Posts

ফ্যাসিবাদকে রুখতে কমিউনিস্ট না হলেও চলবে!

Image
  সাল তারিখ ঠিক মনে নেই, তবে আগের জন্মের কথা, শীতকালের প্যারিস, ক্রিসমাসের কদিন আগেই হবে, তবে যুদ্ধের কারণে আলো টালো অন্যবারের থেকে একটু কম… আমরা আমাদের রোজকার রিচুয়াল অনুযায়ী বিস্ত্রোরএক কোণে বসে অ্যাবসিন্থ খাচ্ছিলাম।দালি ছিলো, বুনুয়েল ছিলো, বেলো আর লোরকা ছিলো, আরও দু একজন ছিলো এখন ঠিক মনে পড়ছে না... বুঝতেই পারছেন আগের জন্মের গল্প, জাতিস্মর হলেও মুকুল তো নই কাজেই... যাকগে মোদ্দা কথা হলো তখন ইউরোপে বেশ ভালোই যুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে, কাজেই দ্বিতীয় অ্যাবসিন্থটার পর, আমরা পণ নিয়েছি, রাতের মধ্যেই যুদ্ধ, কমিউনিজম এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে(থার্ড গ্লাসের পর এ ধরনের আত্মবিশ্বাস অস্বাভাবিক কিছুনা)। বেলো বলছিল কমিউনিজমই ফ্যাসিবাদকে রুখবে। ওদিকে বুনুয়েল কমিউনিস্টদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার ইতিহাস তুলে ধরছিল। এসবে একটা কান দিয়েও দালি ন্যাপকিনে একটা কিম্ভুত মার্কা ঘড়ি আঁকছিল। আমাদের তর্কে তার খুব একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বরং ঘড়িটা কেউ লক্ষ করছে না, সেটাই তাকে বেশি বিরক্ত করছিল। বারের আরেক কোণে হেমিংওয়ে একা একা বসে ডাইকিরি খাচ্ছিল। মুখে সেই পরিচিত বিরক্তি, আমাদ...

গুরু একটাই… উত্তম কুমার!

Image
২ ০১০ সাল। সেন্ট জেভিয়ার্সের ফার্স্ট সেমেস্টার। সাবজেক্ট টা মনে নেই, তবে তমাল স্যারের ক্লাস…অ্যাসাইনমেন্ট টা ছিলো আমাদের পছন্দের যেকোনো একটি ছবির পোস্টার মোনোক্রোমে আঁকতে হবে, তাও আবার ফুল শিট (A1) এ… আফটার অল মফস্বল। ওয়ার্ল্ড সিনেমা সম্পর্কে জ্ঞান বলতে প্রায় কিছুই নেই। কম্পোজিশন কী, টাইপোগ্রাফি কী, একটা ভালো পোস্টার ঠিক কেন ভালো হয়ে ওঠে, কোথায় শুরু করতে হয়, কোথায়ই বা থেমে যেতে হয়, সেসবও শেখা শুরু হয়ছে সবে সপ্তাহ খানেক আগেই। ফলত কম্পোজিশন কি হবে, টাইপোগ্রাফি কেমন হবে সে সব কিছুই ছিলো এলোমেলো এবং অনিশ্চিত। কিন্তু কাকে নিয়ে পোস্টারটা করব, সেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র ডাউট ছিল না। প্রথম পোস্টার, হবে শুধু গুরুর… শুধু উত্তমকুমার এরই। আমাদের জেনারেশনের আর পাঁচজনের মতোই ছোটবেলার উত্তমকুমার বলতে, প্রথমেই মাথায় আসত ধন্যি মেয়ে, মৌচাক, ওগো বধূ সুন্দরী মার্কা হালকা মুচমুচে ছবিগুলো। টিভিতে বারবার দেখতাম। অভিনয়েরও ব্যাকরণ হয় তা মোটেই জানা ছিল না, ব্যাকরণ তখন শুধু কালীপদ চৌধুরী বা এ টি দেব এর… কাজেই সিনেমার ভাষা বোঝা তো আরও দূরের কথা। তখন একটা জিনিস দেখতাম, আর অবাক হোয়ে যেতাম, যে পর্দার বা চারপাশের ক্য...

যাদবপুর একটা অভ্যাসের নাম

Image
  দ ক্ষিণপন্থী রাজনীতির সঙ্গে আমরা একমত নই সেটা মোটেই কোনও সমস্যা নয়, সমস্যাটা আরও মৌলিক। যে রাজনীতির ধারা আপনাকে প্রশ্ন করার আগে আনুগত্য শেখায়, ইতিহাসকে বুঝবার বদলে তার একটি সুবিধাজনক এবং সহজপাচ্য সংস্করণ মুখস্থ করায়, আর সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে শাসকসম সরকারের আনুগত্য দাবি করে… সেই রাজনীতি আসলে ক্ষমতার, গণতন্ত্রের না। প্রথমেই মনে রাখতে হবে দেশ আর সরকার এক নয়। রাষ্ট্র আর শাসকদলও এক নয়। আর সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জরুরি কাজটাই হল এই ছোট অথচ ভয়ঙ্কর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো আমাদের শেখানো… বোঝানো। যাদবপুরে সিনেমা পড়তে গিয়ে আমরা যেমন শিখেছিলাম, প্রতিবাদ মানেই সবসময় রাস্তায় নেমে স্লোগান দেওয়া নয়। আনন্দ পটবর্ধনের রাম কে নাম দেখিয়েছিল রামকে ভালোবাসা আর রামের নামে রাজনীতি করাটা এক জিনিস নয়। পানাহি বা কিয়ারোস্তামি শিখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র যখন ঠিক করে দিতে শুরু করে কে কথা বলবে, কোন শরীর দেখা যাবে, কোন গল্প বলা যাবে, তখন একটা ক্যামেরাও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। ঠিক একইভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বই পড়ানো হবে, কোন বক্তা কথা বলবেন, কোন ছাত্র প্রশ্ন করবে, কোন মতকে ‘দেশবিরোধী’ বলা হবে, ...

সাতোশি কন: স্মৃতি, স্বপ্ন , সিনেমা ও বাস্তবতার কোলাজ

Image
  সা তোশি কন অ্যানিমের ইতিহাসে সন্দেহাতীত ভাবে এমন একজন নির্মাতা যিনি, অ্যানিমের কনভেনশনাল ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে কোনোদিনই নিজেকে আটকে রাখতে পারেন নি। পারফেক্ট ব্লু (১৯৯৭), মিলেনিয়াম অ্যাকট্রেস (২০০১), টোকিও গডফাদার্স (২০০৩), প্যারানইয়া এজেন্ট (২০০৪) আর প্যাপ্রিকা (২০০৬), প্রায় সবকটি কাজেই রিয়্যালিটি আর পারফরম্যান্স, মেমরি আর ফ্যান্টাসি, প্রাইভেট সেলফ আর তার মিডিয়েটেড ইমেজের মাঝের গন্ডিগুলোকে তাই তিনি ইচ্ছে করেই ঝাপসা করে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে কন সবথেকে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন তাঁর এডিটিং আর সিনেম্যাটিক স্পেসের ব্যবহারে। স্বপ্ন, স্মৃতি, ফিল্ম-উইদিন-ফিল্ম বা হ্যালুসিনেশন, এগুলোকে তিনি আলাদা আলাদা ভিজ্যুয়াল টেরিটরি হিসেবে না দেখিয়ে, কনের কাছে বরং একটি স্পেস সরাসরি আরেকটির মধ্যে ঢুকে পরে প্রায় অনায়াসেই। একটা সময়ে শুরু হওয়া জেসচার শেষ হয় কয়েক দশক পরে; একটা দরজা খুলে প্রোটাগনিষ্ট চলে যায় বাস্তব থেকে স্মৃতিতে; একটা ম্যাচ কাট খুব সাধারণ একটা মুহূর্তকে হঠাৎই বদলে দেয় সাইকোলজিক্যাল রাপচারে… মিলেনিয়াম অ্যাকট্রেস-এ যেমন জাপানিজ সিনেমার হিস্ট্রি, চিয়োকোর নিজস্ব স্মৃতি আর সে যে ছবি গ...

শিক্ষক নাকি প্র্যাকটিশনার… এ ভারী অদ্ভুত দোলাচল।

Image
আজকাল না নিজের অবস্থানটা নিয়ে ভয়ঙ্কর ধন্দে আছি। পেশাগত ভাবে ঠিক কোথায় যে দাঁড়িয়ে আছি, আজকাল ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তবে তার আগে নিজের ঢোলটা একটু বাজিয়ে নিই... অ্যাকাডেমিয়ায় আসার আগে প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছি প্রফেশনাল ডিজাইন আর মিডিয়ার জগতে। বেশ কিছু ন্যাশেলন এবং ইন্টারন্যাশেনাল ক্যাম্পেন, বেশ কিছু এমন প্রজেক্ট করেছি, যেগুলো নিয়ে একটু হলেও ঘ্যাম নেওয়া যায়, কিন্তু তার থেকেও বড় কথা হলো ইন্ডাস্ট্রির সেরার সেরা মাথাদের থেকে কাজ শিখেছি, তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, ভুল করেছি, ঠিক ও করেছি, বিয়ের দিন ক্লান্ট মিটিং এ গেছি, এমনকি কখনও কখনও অলমোস্ট ডেড হয়ে গিয়েও ডেডলাইন সামলেছি। কঠিন ক্লায়েন্ট, সহজ ক্লায়েন্ট, খ্যাপা ক্লায়েন্ট, হর্ষবর্ধন ক্লায়েন্ট…খারাপ ব্রিফ, ভালো ব্রিফ, শশি থারুর মার্কা জটিল ব্রিফ… বাজারে সত্যি সত্যি কাজ করতে গেলে যা যা পেরিয়ে আসতে হয়, সেই সব আগুনেই হাত রেখেছি। তারপর কোভিড এলো, মা কে, দাদাভাই কে নিয়ে চলে গেল... জীবন সম্পর্কে, কাজ সম্পর্কে, লক্ষ্য সম্পর্কে, মোক্ষ সম্পর্কে…যা যা ধারণা ছিল, সবগুলোকেই দুমড়ে মুচড়ে ডি এবং রি কনস্ট্রাক্ট করে দিল, কেরিয়ারের...

যাদবপুর সম্পর্কে দু চারটি কথা যা আমি জানি...

Image
ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৪: অল্টারনেটিভ সিনেমার ক্লাস চলছে, হঠাৎই কথা উঠল, সিনেমা কীভাবে প্রতিরোধের ছবি হয়ে উঠতে পারে তা নিয়ে। আর প্রসঙ্গতই উঠে এলো আনন্দ পটবর্ধনের ‘রাম কে নাম’ এর কথা, ছবিটি দেখতে দেখতে আমরা বুঝতে পারি কীভাবে এটি পৌরাণিক রামচন্দ্র বা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেয় না, বরং প্রতিবাদ করে সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে, যা রামের নামকে ব্যবহার করে ক্ষমতার ভাষা তৈরি করে। দেখি পটবর্ধন কীভাবে ‘রাম কে নাম’কে হিন্দু মৌলবাদের উত্থান এর এক সাক্ষী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্ককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে শুরু হয় হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে সংগঠিত করার এক  নির্লজ্জ দক্ষিণপন্থী কৌশল। সেই শুরু… তারপর এল ইরানিয়ান ছবির ক্লাস, ধীরে ধীরে  বুঝতে পারি ইরানিয়ান ছবি শুধু দৃশ্যকাব্যের আখ্যান নয়, বরং হয়ে ওঠে একটি  সমাজ সংগ্রাম চিত্রকল্প, যে সমাজে কী দেখা যাবে, কি যাবে না, কে কথা বলবে, কে বলবে না, কোন নারী কীভাবে বা কতটা পর্দায় থাকবে, কোন সত্য উচ্চারণ করা যাবে, কি উচ্চারণ করা যাবে না, এই সবকিছুর ওপর যখন জারি এক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, তখন সেখানে ক্যামেরাই হয়ে ওঠ...

আজি হসন্ত জাগ্রত দ্বারে

Image
  অ্যা ন্টেনার কাক থেকে ছাতিম ফুল, অমিত রায় থেকে বেনীমাধব সবাই তঠস্হ। লাল বেলুন, পিট্যুইটারীর ভাদ্র মাস আর বুকে ঝিলমিল যশ চোপড়া নিয়ে এসে গিয়েচে সন্ত ভ্যালেন্টাইনের ফিস্টি। কামদেব আর কিউপিড মনোজ কুমারের পুব পশ্চিম ঝগড়া থামিয়ে যে যার তীর বাগিয়ে ফুল রেডি। সিঙ্গেল রূপেন সংস্থিতা পাশের রকের পিন্টু সানি দেওলের হ্যান্ড পাম্পের কসম খেয়েছে যে আজ যদি টিউশান ফেরত একটিবার 'পলট পলট পলট' হয়ে যায় তাহলেই ব্যাস ফেসবুকের রিলেশানশিপ স্ট্যাটাসটা সটান বদলে হবে 'কমিটেড'। তারপর না হয় পাগলী তোর সঙ্গে সেলফিক্লান্ত কাটাব জীবন। মোদ্দা কথাটা হল সব্বাই রেডি ভালবাসাবাসির উল্লাস যাপনে। বজরং দল রেডি যুগলদের হিন্দুমতে বিয়ে দিতে, ফ্যাতাড়ুরা রেডি শিবসেনার মাথায় হাগতে, কামুক বন্দ্যোপাধ্যায় রেডি রানু ভানুর কেচ্ছা কীর্তনে, লেকমার্কেটের রাকেশদা রেডি কাঁটা বেছে লং স্টেম গোলাপ নিয়ে, আর হাল ছেড়ে দেওয়া সিঙ্গেলরা রেডি জগন্নাথের পূজায় বসতে। দ্যাখো আমি বাড়ছি মামি আমরা যারা নব্বইএর দশকে বড় হয়েছি, ভালবাসা কথাটা শুনলেই যাদের প্যাভলভের কুকুরটার মত বাঁ কানে ম্যান্ডোলিন, ডান কানে ভায়োলিন আর চোখে সর্ষের ক্ষেত ভাসে; ইক...